যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে দুই প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি নিয়ে বাকযুদ্ধ ততই তীব্র হয়ে উঠেছে। তাদের প্প্রতিদ্বন্ধীতায় এখন মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত রোববার সিবিএস টেলিভিশনের সিক্সটি মিনিট অনুষ্ঠানে বলেন, গভর্নর মিট রমনি মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধ শুরু করার জন্য যদি আমাদের পরামর্শ দেন, তাহলে তাকেই তা করা উচিত। রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনি সিরিয়ায় চলমান রক্তপাত বন্ধের লক্ষ্যে ওবামা প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকারকে উৎখাতে বিরোধীদের সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে দোষারোপ করেন। সেখানে এ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যার অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। রিপাবলিকান প্রার্থী আরো অভিযোগ করেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য ওবামা তেমন কিছুই করছেননা। তেহরান বলছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে তাদের এই পরমাণু কর্মসূচি। অন্যদিকে পশ্চিমাদের সন্দেহ, দেশটি পরমাণু অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। রমনির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে ওবামা বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর কি কি করেছি দেখুন।

আমার বলিষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের ফলেই ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্য ফিরিয়ে আনা এবং তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমাপ্তি টানা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আল কায়েদার পিছু ধাওয়া করেছি। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত উপজাতীয় অঞ্চলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখান থেকে আমরা আল কায়েদাকে উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের পিছু নিয়েছিলাম এবং তাকে শেষ করে দেয়া সম্ভব হয়েছে। এভাবেই আমার পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করছি। যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষই এ ব্যাপারে আমার সঙ্গে একমত। ওবামা অভিযোগ করেন, রমনি বুশের আমলের মতই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু করার পদ্ধতি অনুসরণ করতে চান। হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের মুখে তারই প্রতিধ্বনি শোনা যায়।

ওবামার কযেকজন উপদেষ্টা এর আগে অভিযোগ করেছিলেন ইরাক যুদ্ধ শুরু করার জন্য নব্যরক্ষণশীল উপদেষ্টারা যেমন বুশকে পরামর্শ ও ইন্ধন দিয়েছিলেন সে রকমভাবে তারা আবার রমনির উপর ভর করছেন। চমৎকার বাচনভঙ্গি ও বহু সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ওবামা ক্ষমতায় আসীন হওয়ার মাত্র ১১ মাসের মাথায়ই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তার আমলেই বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটে। তার পূর্বসূরী জর্জ বুশ একলা চলো নীতি অনুসরণ করতেন। ওবামা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যে ভাষণ দেবেন তার সারাংশ তুলে ধরতে গিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টমি ভিক্টর বলেন, এটা পরিষ্কার যে, আমরা যখন কাজ শুরু করেছিলাম সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। যুক্তরাষ্ট্রে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর প্রতি অবমাননাকর চলচ্চিত্র নির্মাণের বিরুদ্ধে দেশে দেশে যে বিক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে সে প্রেক্ষিতে ওবামার জাতিসংঘ ভাষণে মধ্যপ্রাচ্যই প্রাধান্য পেয়েছে।

সিক্সটি মিনিটস অনুষ্ঠানে ওবামা বলেন, সবকিছু দ্রুতগতিতে হচ্ছে। সেখানে উগ্রবাদ, মার্কিন ও পাশ্চাত্য বিরোধী আবেগ কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের হয়তো কখনো কখনো কিছু দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হতে পারে। তবে আমি মনে করি তা দীর্ঘমেয়াদী হবে না কারণ আমরা অধিকতর শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও আমাদের স্বার্থের প্রতি অনুকূল মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা চাই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ৬ সপ্তাহ আগে ওবামা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। অন্যান্য ইস্যুর তুলনায় বৈদেশিক নীতি ও অর্থনীতির বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে তিনি ভাষণ দেবেন। কারণ মার্কিন জনগণের মধ্যে এ দুটি বিষয়ই প্রধান ইস্যু হয়ে আছে। ভোটারদের দিকে লক্ষ্য রেখেই তিনি এই ভাষণ দেবেন। তারপরও ওবামা রমনির কিছু উল্টাপাল্টা বক্তব্যের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন। গত সপ্তাহে রমনির একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে যেখানে তিনি ওবামার সমর্থক মার্কিনীদের ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। রিপাবলিকান প্রার্থীর তহবিল সংগ্রহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার ভাষণ রেকর্ড করা হয়। এই ভাষণে রমনি বলেন, প্রায় অর্ধেক মার্কিনী কর দেয় না, তার সরকারের উপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, যেসব ভোটার ওবামার সমর্থক তারা সম্ভবত স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও বাসস্থানের জন্য সরকারের ওপর নির্ভরশীল।

অনলাইন ডেস্ক