নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন করে মুসল্লীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করার জন্য মসজিদের ভিতরে গুপ্তচর পাঠানোর অভিযোগে এফবিআইয়ের বিরুদ্ধে করা একটি মামলা খারিজ করে দিয়েছেন একজন মার্কিন বিচারক।

এফবিআই'র দাবী স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রতিহত করতে তারা এ ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়নের (এসিএলইউ) এ্যাটর্নি এহিলন অরুলানানথাম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এটা চরম অন্যায় কারণ বর্তমানে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল শত শত মুসলিম নাগরিক ঘূর্ণাক্ষরেও জানতে পারছে না সরকার কিভাবে তাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে।


যে কারণে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে আপিলের ভিত্তিতে মামলাটি পুনঃপর্যালোচনা করতে হবে কারণ, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা সরকারের কাছে একটি মৌলিক বিষয়।ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন মসজিদে গুপ্তচর পাঠিয়ে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে এফবিআইকে অভিযুক্ত করে এসিএলইউ এবং কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্স (সিএআইআর) একটি মামলা দায়ের করেছিল। মামলার অভিযোগে বলা হয়, এফবিআই অরেঞ্জ কাউন্টির বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করার জন্য ক্রেইগ মন্টেইল নামের ছদ্মবেশধারী গুপ্তচর পাঠিয়েছে। অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০০৬ ও ২০০৭ সালে অপারেশন ফ্লেক্স নামের সন্ত্রাস দমন কর্মসূচি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে গোয়েন্দারা শত শত ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় লেকচার, ক্লাস, সংস্কৃতিক পর্ব এবং অন্যান্য বৈঠকসমূহ গোপন ভিডিও অডিও ক্যামেরায় ধারণ করে। যাতে একটি অপরাধের প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ কোরম্যাক কার্নি ঐ মামলাটি খারিজ করে দিয়ে বলেন, স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা প্রকাশিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি একে খারিজ করে দিয়েছেন।ঐ জজ নিজেকে রূপকথার গ্রীক বীর অডিমাসের সাথে তুলনা করেন। যিনি ট্রোজান যুদ্ধ থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার জাহাজটি উভয় সংকটে পতিত হয়েছিল। একদিকে ছিল ৬ মাথাওয়ালা এক অদ্ভুত দৈত্য অপরদিক প্রদত্ত বিপদজনক ঘূর্ণিজল। বিচারক নিজেকে সে ধরনের উভয় সংকটে পতিত বলে বর্ণনা করেন।

কিন্তু ঐ জজ এফবিআইয়ের জন গোয়েন্দার বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। যারা ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিলেন্স এ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছেন। এফবিআই স্বীকার করেছে মন্টেইলকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু তারা যে অসাংবিধানিক কাজ করেছে তা অস্বীকার করেছেন। সরকারি কৌঁসুলিরা বলেছেন, মন্টেইলের কর্মকান্ড খুবই স্পর্শকাতর।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ডিস্ট্রিক্ট জজের ঐ রায়কে অসাংবিধানিক হিসেবে উল্লেখ করেছে। এসিএলইউ'র কৌঁসুলি পিটার বিবরিং লস এ্যাঞ্জেলস টাইমসকে বলেন, এটা চরম দুর্ভাগ্যজনক। আইনের দৃষ্টিতে এটি সংবিধানের চরম লঙ্ঘন। কোন গণতান্ত্রিক সমাজে এটা গ্রহণীয় হতে পারে না।

অনলাইন ডেস্ক