আমাদের চিরাচরিত সহস্র বৎসরের পুরাতন বাঙ্গালী সংস্কৃতি বহুলাংশে সমৃদ্ধ এমনকি তথাকথিত পাশ্চাত্যের উৎকৃষ্টতাও আমাদের ধ্রুপদের নিকট পরাজিত! কখনোও একটু পিছনের দিকে ফিরে ভেবে দেখেছিলেন কি যখন পাশ্চাত্যে সভ্যতায় পা দিয়েছিলেন আর অনেক সময় পেরিয়ে এখন আপনার অভিজ্ঞতার আলোকপাত নিয়ে?

রঙ্গিন স্বপ্ন অনেকেরই হয়ত ধূসর এখন আবার অনেকেই হয়তোবা রঙ্গিন স্বপ্নের গভীরে নিষিক্ত!

"ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষার" ইতিহাস ঘেটে দেখলে বুঝা যায় ইংরেজী ভাষার দৈন্যতার ভিক্ষাভিত্তি!

দীর্ঘসময়কাল ইংরেজী শাসন এবং পরবর্তী "ব্রিটিশ কমনওয়েলথ" এর সদস্য থাকার কারনে ইংরেজী ভাষাজ্ঞান এবং এদের ধার করা চর্বিতচোষ্যতার কোন মাধুর্য্যতা আর নেই! যারা এটা বুঝে গেছেন ইতিমধ্যে তাদের প্রতি "স্যালুট" রইলো, আর যারা বুঝেন নাই এখনোও তাদের জন্যে অপেক্ষায় রইলাম ...

বিদেশ বিভুইয়ে বাঙ্গালী পরিবারের মধ্যে বিশেষকরে মাতাদের এগিয়ে আসতে হবে বাঙ্গালী ভাষা এবং সংস্কৃতি শিক্ষাদানে নিজ গৃহের সন্তানদেরকে কারণ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমনটি বলেছেন, 'আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনি, তারপর ইংরেজি শিক্ষার পত্তন'।

আল্ট্রা মর্ডানাইজড (আধুনিকতার প্রতিযোগিতায়) ইংরেজী ভাষার শব্দের AK47 এর মতো তরিৎকর্মা কোন মাপকাঠি হতে পারে না কখনোও! তাই বদ্ধমূল ধারণা যতসম্ভব শুধরে নেয়াটা আমাদের জন্য মঙ্গল!

ভবিষ্যতে দেখবেন যে- আপনার ঘরের ছেলে-মেয়েরা ইংলিশ ভাষা বিভিন্ন উচ্চারণে (Accent ) মুখরিত কিন্তু দেখবেন যে বাঙ্গালী সংস্কৃতির ভাষাজ্ঞানে একদম কাচকলা! তখন জেনারেশন গ্যাপ তৈরী হবে অবধারিত!! ঐ সময়ে কি করবেন?

এই দৃশ্য দেখে সংকিত হবেন না যখন দেখবেন কোন বাঙ্গালী ঘরের ছেলে মেয়েরা ইংরেজীর alphabet দিয়ে বাংলা শব্দের উচ্চারণ করছে! যা রীতিমত আরেকটা ভয়ংকর ব্যাপার! যাকে আমরা "বাং-রেজী" বলি! এদের উন্থান ও পতন দুটোই ক্ষণস্থায়ী!!

বাঙ্গালী যেখানে Facebook নিংড়িয়ে "বাংরেজী ম্যান" এ রুপান্তির হচ্ছে আর সভ্যরা Tweeter এর ডিবেটে কামানের গোলা দাগছে!

ফিরে আসি একদিন বাঙ্গালী ছিলাম রেঃ
বিদেশে থাকা মা-বোনদের এগিয়ে আসতে হবে বাঙ্গালী সংস্কৃতি রক্ষায় সেটা হতে পারে আমাদের জাতীয় উৎসবসমূহ পালন, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা বা বাংলা বই পড়ার আসর। যখন ঘরের নারীরা এগিয়ে তখন ঐ ঘরের পুরুষরাও তাল মেলাতে বদ্ধপরিকর ভূমিকায় অবর্তীণ হবেই হবে।

দেশীয় নকশী কাথা, শীতের জৌলুসময় পিঠে উৎসব, বাউল-মারফতী-লোকগীত ইত্যাদি সম্পদ কখনোও হারিয়ে যাবার নয় বরং সম্পদগুলো আঁকড়ে ধরেই নিজেদের অস্তিত্বের জাগান দিতে হবে বহিঃবিশ্বের মাটিতে! তবেই তো স্বার্থকথা আমাদের।

নিজ ঘরে তো বাংলা ভাষা যেমন চর্চা হবে তেমনি শুধু ইংরেজী কেন অন্যান্য সমৃদ্ধ ভাষা জার্মান, ফরাসি বা স্পেনিশ ভাষা কেন নয়!?

শেষের দিকে বলতে চাই দেশীয় সংস্কৃতিতে British Council এর IELTS, TOFEL বা ইংরেজী ভাষা শেখার অদ্ভুত ব্যয়বহুল প্রতিযোগিতায় আমরা যেমন মগজ ধোলাই হয়ে আসছি , এই ক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে যে ইংরেজী কেবল একটি ভাষা মাত্র এবং বিশ্বের প্রায় ১৩ টি দেশেই প্রধানভাষা রুপে প্রচলিত। আর সময় এসেছে দেশীয় স্কুলে জার্মান, ফরাসি, স্পেনিশ ইত্যাদি ভাষা শেখানো! দেখবেন ইংরেজীর দৌড়ঝাপ কেমনজানি অনেকটাই কমে যাবে!

জাতীয় নেতাদের একটু সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা দরকার মাত্র! দেশীয় পণ্য কিনে হোন ধন্য তেমনি দেশীয় সংস্কৃতিতে হোন গৌরবান্বিত।

একটু বিরস বদলে বলিঃ
নির্মম হলেও খেয়াল করে দেখবেন যে খোদ ইউরোপের অন্যান্য দেশে ইংরেজী ভাষার কোন সম্মানই দেখায় না অন্যান্য ভাষাভাষীদেশের জনগন! আর ইংরেজী ভাষা শিক্ষিত/অশিক্ষীত ভাবার কোন মানদন্ডই হতে পারে না।

Multiculturalism এর Juice এবং এর থেকে সৃষ্ট ভুত একটা অদ্ভুত ঢংগা! এই বাজনা বাজবে ঠিকই কিন্তু দিন শেষে Identity Crisis এর কর্কষ সুর! তখন দেশের সংস্কৃতিকে প্রেম-ভালোবাসা নয় লোক দেখানো হয়ে পড়ে!

একটু খেয়াল রাখছি যে-
আমরা কঠিন ভাষা বর্জন করি কারণ আধুনিক যুগে বঙ্কিমের সাহিত্যরস পাবার লোক খুবই কম!

সমীর কুমার ধর
ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড