সৌরশক্তি চালিত বিমানে চড়ে ইউরোপ থেকে আফ্রিকায় - স্পেন থেকে জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রম করে একটি সৌরশক্তি চালিত বিমান গত মঙ্গলবার মরক্কোর রাজধানীতে অবতরণ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এটা বিশ্বের প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় বিমান যেটি চালাতে সৌরশক্তি চালিত বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে।

৫৪ বছর বযস্ক সুইস মনো চিকিৎসক ও বেলুনচারী বার্ট্রান্ড পিককার্ড পূর্ণ চাঁদের কিরণে রাত সাড়ে ১১টায় সৌর বিমানে করে রাবাত সেল বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। স্পেনে তাকে মরক্কোর সৌরশক্তি সংস্থা (এমএএসইএন) অভ্যর্থনা জানায়। তার সাথে আন্দ্রে বোর্সবার্গ (৫৯) সহ তারা এই অভিযানে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার আকাশ পথ পাড়ি দেন। সুইজারল্যান্ডের পেয়েরনি যেতে তারা প্রথম স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে আসেন। সেখান থেকে জিব্রাল্টার প্রণালীর ওপর দিয়ে উড়ে বিমানটি নিয়ে গত মঙ্গলবার মরক্কোর রাবাত সেলে অবতরণ করেন তারা। এ সময় তারা মোট ২৬ ঘণ্টা ৮০ মিনিটে ১৯ সেকেন্ড আকাশে উড়েন। ঐতিহাসিক সৌর শক্তি চালিত বিমান রানওয়েতে স্পর্শ করার দৃশ্য দেখার জন্যে বিমান সংস্থা এবং মরক্কোর কর্মকর্তাসহ বহু লোক সেখানে সমবেত হন।

বিমানের ককপিট থেকে বেরিয়ে আসার পর পরই এক সাক্ষাৎকারে পিকার্ড জানান, এক ঘণ্টা সময়ে আমার ডান পার্শ্বে ছিল পূর্ণ চাঁদ এবং বাম পার্শ্বে ছিল সূর্যোদয়ের দৃশ্য যা পুরোপুরি চমৎকার। আকাশ এবং মাটিতেও রঙধনু মিশ্রিত ছিল। ১০ ঘণ্টার বেশি বিমান চালাবার পর পিককার্ড সাড়ে ৫ হাজার মিটার (১৮ হাজার ফুট) উপরে উঠে যায়। এক সময় বরফ ও উচ্চতায় বিমান ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে উড়ানোর সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্যে অক্সিজেন মাস্ক প্রয়োজন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ এই যাত্রা পথে বিমান চালানায় তারা কোন জ্বালানি তেল নয় বরং সৌর শক্তিচালিত বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করেন। সৌর প্যানেলটিতে মোট ১২ হাজার সৌরকোষ ব্যবহার করা হয়েছে। বিমান উড্ডয়নের জন্যে ৪শ' কেজি (৮৮০ পাউন্ড) ওজনের লিথিয়াম পলিমারের তৈরি ব্যাটারিতে চার্জ দেয়া হয়েছে। আকারে এটি সাধারণ যাত্রীবাহী এ-৩৪০ বিমানের মতোই বটে। তবে সে অনুপাতে বিমানের ওজন একেবারেই কম।

আইরিশ বাংলা বার্তা - অনলাইন ডেস্ক