করোনার দিন শেষ হবে একদিন, সকলের সাথে দেখা হবে একদিন। সম্ভাবত অনেক প্রতিক্ষার পর এমন দিনটি উকি দিচ্ছে আমাদের মাঝে। আশার বাসা বাধতে শুরু করেছে আমাদের হৃদয়ে।

আজ বৃহস্পতিবার থেকেই করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন ট্রায়াল শুরু হতে চলেছে, এমন সুখবর জানাচ্ছে ব্রিটেন সরকার। করোনার ভ্যাকসিন মানব শরীরে পরীক্ষা করতে চলেছেন ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞরা। আশা করা যাচ্ছে এতে নির্মূল হবে করোনা ভাইরাস। ব্রিটেন সরকার জানিয়েছে, আগামীকাল থেকে শুরু হবে মানবদেহে এই ভ্যাক্সিন পরীক্ষা। একটি ভ্যাকসিন নিয়ে এই মুহূর্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন গিলবার্ট। এটির নাম ChAdOx1 nCoV-19। ৫১০ জন স্বেচ্ছাসেবকের টিম বানানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য। এদের প্রত্যেকের বয়স ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। সারা বিশ্বের অন্য গবেষকদের মতো অক্সফোর্ডের গবেষকেরাও কোভিড ১৯ -এর অ্যান্টিবায়োটিক তৈরিতে কাজে লেগে পড়েছে। তবে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছিল এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী ওষুধ তৈরিতে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’ (ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন) জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে মোট ৭০ টি করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করা হচ্ছে। চিনে একদল গবেষক ও যুক্তরাষ্ট্রে অপর দুই গবেষক দল ইতিমধ্যেই মানব শরীরে তাঁদের তৈরি ভ্যাকসিনের পরীক্ষা করতে শুরু করেছে। অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন পরীক্ষার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই ৫১০ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে।এদের প্রত্যেকেরই বয়স ১৮ থেকে ৫৫- এর মধ্যে। এরা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি ওই ওষুধ নিজেদের শরীরে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত। আপাতত আশা করা হচ্ছে, জেনার ইনস্টিটিউট এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভ্যাকসিন সেপ্টেম্বরে প্রস্তুত হবে। তবে এখনও পর্যন্ত যতদূর কাজ এগিয়েছে, সফলতা মিলেছে। যে ওষুধ তৈরি করা হচ্ছে, তা সরাসরি গিয়ে এই ভাইরাস বা এনজাইমের ওপর কাজ করবে। শুধু করোনা ভাইরাসই নয়, এই ধরণের ড্রাগ বা ওষুধ হৃদরোগ, আর্থারাইটিস, স্ট্রোক, ক্যান্সারের মতো রোগেরও উত্তর হতে পারে বলে জানান লিউক। তিনি বলেন করোনার উত্তর রয়েছে ওই ৬টি ড্রাগ কম্পাউন্ডের মধ্যে। সাফল্য এল করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষানিরীক্ষাতে। লকডাউন, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং-এসবের ফলে করোনা ভাইরাসকে থামানো গিয়েছে, একথা বলা যাবে না। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছিলেন, করোনার একমাত্র উত্তর তার ভ্যাকসিন। সেই পরীক্ষানিরীক্ষায় প্রাথমিক সাফল্য এল। জানা গিয়েছে প্রাণীদের ওপর করোনা ভ্যাকসিনের যে পরীক্ষা করা হয়েছিল, তা সফল হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, গোটা বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় প্রায় ৭০টি ভ্যাকসিনের ওপর কাজ চলছে। এর মধ্যে ৩টি মানব শরীরে পরীক্ষা হবে।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধকের উন্নয়ন ঘটিয়েছে জার্মান প্রতিষ্ঠান ফাইজার এবং বায়ো এনটেক মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক । এই প্রতিষেধকটি মানুষের ওপর পরীক্ষার জন্য অনুমতি পেয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এই প্রতিষেধকটি ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী দুইশো স্বাস্থ্যবান মানুষের ওপর প্রাথমিক পরীক্ষা চালানো হবে।

এদিকে, এবার করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন ট্রায়াল শুরু হতে চলেছে, এমন সুখবর জানাচ্ছে ব্রিটেন সরকার। করোনার ভ্যাকসিন মানব শরীরে পরীক্ষা করতে চলেছেন ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞরা। আশা করা যাচ্ছে এতে নির্মূল হবে করোনা ভাইরাস।

ব্রিটেন সরকার জানিয়েছে, শুরু হবে মানবদেহে এই ভ্যাকসিন পরীক্ষা। একটি ভ্যাকসিন নিয়ে এই মুহূর্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন গিলবার্ট। এটির নাম ChAdOx1 nCoV-19। ৫১০ জন স্বেচ্ছাসেবকের টিম বানানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য। এদের প্রত্যেকের বয়স ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে।

আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের টিকা তৈরি করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা। বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে টিকাটির পরীক্ষামূলক ব্যবহারে সফলতা পাওয়া গেছে। এখন মানব দেহে এর পরীক্ষা শুরু হবে। আগামী সপ্তাহ থেকেই এ পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরীক্ষাটির প্রধান গবেষক অধ্যাপক আড্রিয়ান হিল। এ খবর দিয়েছে দ্য ডেইলি মেইল।

ভারতে ইতোমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হলেও দেশটির ডাক্তাররা সফলভাবে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সম্পন্ন করেছে। Lopinavir, Retonovir, Oseltamivir এবং Chlorphenamine মেডিসিনের সংমিশ্রণে তৈরি করা মেডিসিনের মাধ্যমে সফলতা পেয়েছে। যা তারা বিশ্বব্যাপি সকল চিকিৎসককে অনুসরণ করতে বলেছে।

বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কোনো স্বীকৃত ওষুধ বা টিকা নেই। বিশ্বজুড়ে অসংখ্য গবেষক ও বিজ্ঞানীরা এর টিকা তৈরির চেষ্টা করছেন। নেদারল্যান্ডের ইরাসমাস মেডিকেল সেন্টার (Erasmus Medical Center)-এর বিশেষজ্ঞরা করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় বিশেষ একটি এন্টিবায়োটিক তৈরি করেছে। কানাডার একদল বিজ্ঞানীরাও করোনা ভাইরাসের মেডিসিন আবিষ্কারের ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে, ৭০টিরও বেশি টিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। এর মধ্যে টিকা তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘মানব দেহে পরীক্ষা’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ও চীনের একটি প্রতিষ্ঠান।

নতুন করে সে তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের একটি দল। অক্সফোর্ডে দলটির প্রধান অধ্যাপক হিল বলেন, আমরা আগামী সপ্তাজ থেকে মানব দেহে পরীক্ষা শুরু করবো। আমরা টিকাটি বিভিন্ন প্রজাতীর প্রাণীর উপর পরীক্ষা করে দেখেছি। তিনি বলেন, আমরা এক্ষেত্রে বেশ সতর্ক কিন্তু দ্রুত পন্থা অবলম্বন করেছি। হিলের দল শিম্পাঞ্জির দেহ থেকে অ্যান্টিবডি নিয়ে টিকা তৈরির চেষ্টা করছে। এজন্য শিম্পাঞ্জির দেহে প্রথমে ভাইরাসটি প্রবেশ করানো হয়। ভাইরাস থেকে বাঁচতে প্রাণীটির দেহে একধরনের অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হয়। অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ ও জেনার ইন্সটিটিউট যৌথভাবে এই টিকা তৈরির কাজ করছে।

তাদের প্রত্যাশা আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তারা টিকাটি মানুষের মধ্যে ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে পারবে। তবে সেটি বাজারে আসতে দেরি হতে পারে।

হিল বলেন, বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ করা একটি ভিন্ন প্রক্রিয়া। অনেক ক্ষেত্রে, তাতে কয়েক বছর লেগে যায়। তিনি বলেন, এমন কোনো টিকা তৈরি করে লাভ নেই, যেটি গণহারে উৎপাদন করা না যায়। এজন্য আপনার লাখো নয়, প্রতি বছর শত শত কোটি টিকা উৎপাদনের প্রযুক্তি থাকতে হবে।

সাধারণত কোনো ওষুধ বা টিকা মানুষের ব্যবহারের জন্য উপযোগী হিসেবে ঘোষিত হতে মানব দেহে পরীক্ষার তিনটা পর্যায় পার করতে হয়। এর মধ্যে প্রথমে স্বল্প সংখ্যার মানুষের মধ্যে পরীক্ষা চালানো হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো বেশি সংখ্যক মানুষের উপর ও তৃতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন জায়গায় হাজারে হাজারে ও কখনো লাখ লাখ মানুষের উপর পরীক্ষা চালানো হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে মানব দেহে পরীক্ষার শুরু করেছি তিনটি প্রধান টিকা প্রস্তুতকারী দল। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্না ও ইনোভিও ফার্মাসিউটিক্যালস এবং চীনের কানসিনো বায়ো রয়েছে। কানসিনো বায়ো জানিয়েছে, তারা খুব শিগগিরই মানব দেহে পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপ শুরু করতে যাচ্ছে।

করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের মধ্যে সুখবর শোনাচ্ছেন থাইল্যান্ডের একদল চিকিৎসক। তারা দাবি করেছেন, করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় তারা সাফল্য পেয়েছেন। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের রাজাভিথি হাসপাতালের চিকিৎসকরা এই দাবি করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ফ্লু এবং এইচআইভি ভাইরাসের ওষুধের মিশ্রণ করোনা ব্যবহার করে তারা প্রাথমিক সাফল্য পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। থাই চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নতুন পদ্ধতিতে রোগী পুরোপুরি আরোগ্য লাভ না করলেও অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। তবে এটা এটা মানসম্পন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি কি না তা নিয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন।

চিকিৎসকরা তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। মারাত্মকভাবে আক্রান্ত রোগীর ওপরই কেবল তা প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাদের তত্ত্বাবধানে ৭০ বছরের এক নারী রোগীও আছেন। তার ওপর এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে কি না তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

জাপানের ফুজিফিল্ম তয়োমা ফার্মাসিউটিক্যালস লি. তৈরি করল ফ্যাভিপিরাভির ‘অ্যাভিগান’ নামে ট্যাবলেট। যা কি-না করোনাভাইরাসকে কার্যকরভাবে মে’রে ফেলা সম্ভব। এরই মধ্যে অন্তত ডজনখানেক ওষুধ যেমন- ফ্যাভিপিরাভির, রেমডেসিভির, ইন্টারফেরন আলফা টুবি, রিবাভিরিন, ক্লোরোনকুইনিন, লোপিনাভির এবং আরবিডল কভিড-১৯ চিকিৎসার সারিতে জমা হয়েছে। সরাসরি নভেল করোনাভাইরাসের জন্য তৈরি না হলেও অন্য ভাইরাসের বি’রু’দ্ধে কাজ করা ড্রাগ করোনাভাইরাস ঠেকাতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার শুরু হয়েছে।

করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় ট্যাবলেট অ্যাভিগান জাপানের ফুজি ফিল্ম কোম্পানির সাবসিডিয়ারি ওষুধ কোম্পানি তয়োমা কেমিক্যাল। ট্যাবলেটটির জেনেরিক নাম ফ্লাভিপাইরাভির। ওষুধটি এখন বাংলাদেশের বেক্সিমকো ও বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস তৈরি শুরু করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’ (ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন) জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে মোট ৭০ টি করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করা হচ্ছে। চিনে একদল গবেষক ও যুক্তরাষ্ট্রে অপর দুই গবেষক দল ইতিমধ্যেই মানব শরীরে তাঁদের তৈরি ভ্যাকসিনের পরীক্ষা করতে শুরু করেছে।

আমেরিকার খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন এখনও কোভিভ-১৯ রোগের চিকিৎসার জন্য কোনো ঔষধকে অনুমোদন দেয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য দপ্তর এবং অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য দপ্তর ফ্লাভিপাইরাভির ওষুধটিকে এখনও অনুমোদন দেয়নি। ইতালিতে ট্রায়ালে ভালো ফল পাওয়া গেছে তবে সরকারিভাবে এখনও অনুমোদন দেয়নি। বর্তমানে বিশ্বের ২০টি দেশে ওষুধটির ট্রায়াল চলছে। অ্যাভিগান সত্যি যদি করোনাভাইরাসকে প্রতিরো’ধ করতে পারে, তাহলে এটি হবে এই শতকের সবচেয়ে বড় অর্জন।

করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপি যখন সবাই আতংকিত, তখন এই সংবাদগুলো আসলেই সবাইকে আশান্বিত করবে তাতে সন্দেহ নেই। আশা করি, সমগ্র মানব জাতি ধর্ম জাতি নির্বিশেষে এই মরণঘাতি ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দ্রুতই জয়লাভ করতে পারবে। সেই পর্যন্ত আমরা যদি ঘরে থাকি, তবেই করোনা হবে বন্দি। তবেই জিতব আমরা, জিতবে আমাদের পৃথিবী।

এ. কে. আজাদ - বার্তা সম্পাদক