সৌদী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারি ভবন ও অন্যান্য সরকারি স্থানে প্রকাশ্য ধূমপানে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করার জন্য প্রাদেশিক গভর্নরদের নির্দেশ দিয়েছে। কিশোরদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা রোধের এবং আরো সুস্বাস্থ্যলাভে সৌদি নাগরিক ও অভিবাসীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এই নির্দেশ জারি করা হয়। 

ধূমপানবিরোধী গোষ্ঠীগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আহমদের নির্দেশের তারীফ করেছে কিন্তু রেস্তোরাঁ মালিকরা বলেন, এতে ব্যবসার ক্ষতি হবে। রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলোয় তথা সমস্ত মন্ত্রণালয় সরকারি দফতর ও প্রতিষ্ঠানে এযাবৎ প্রচলিত সিসা-পরিবেশনেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

মন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘আমরা একটি মুসলিম দেশ বিধায় ইসলামী আইন অনুসরণে একটি দৃষ্টান্তস্থল হিসেবে নিজেদের তুলে ধরা হচ্ছে আমাদের কর্তব্য। ক্ষতিকর কাজকর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং সর্বজনের সম্পদ, স্বার্থ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে ইসলামী আইনে জনগণকে উৎসাহিত করা হয়ে থাকে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এই কারণেই বিভিন্ন সরকারি বিভাগে ও রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংস্থায় ধূমপানে নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন নিশ্চিত হওয়ার জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। একই কারণে কফি হাউস, রেস্তোরাঁ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন জনসমাগম স্থলে ধূমপানে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হওয়া উচিত। সিসাকেও নিষেধের আওতায় আনা হয়েছে কেননা সিসা সিগারেটের তুলনায় কম বিপজ্জনক নয়।

বেসরকারি খাতের কর্মচারীরা নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, বহু ব্যক্তিমালিকানাধীন সৌদাগরী দফতরে ইতোমধ্যেই ধূমপানে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। জেদ্দায় একটি নির্মাণ কোম্পানিতে কর্মরত নকশা-প্রণয়ন প্রকৌশলী আহমদ আল-ওলিয়ান বলেন, সিদ্ধান্তটি চমৎকার। এরপর রেস্তোরাঁর মতো জনসমাগমস্থলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে দেখা বাকি রইলো। প্রেসিডেন্সি অব মেটিয়োরোলজি অ্যান্ড ইনভায়রনমেন্ট-এ কর্মরত আলী মোয়াতেজ তাঁর ব্যক্তিগত ধূমপান বন্ধে নিষেধাজ্ঞাকে উৎসাহবর্ধক মনে করলেও ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া প্রশ্নে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

এর আগে ন্যাশনাল কমিটি অন ফাইটিং টোব্যাকো নবেম্বরে তাদের একটি সুপারিশে ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে তামাকজাত সামগ্রী বিক্রয় বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানায়। জুনে মিনিস্ট্রি অব মিউনিসিপ্যাল এন্ড রুরাল এফেয়ার্স আঠারোর চেয়ে কমবয়সীদের কাছে সিগারেট বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তামাক আমদানি ও উপভোগের জগতে সৌদি আরবের স্থান হচ্ছে চতুর্থ। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল জানায়, সৌদীরা ১৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার মূল্যের ১৫শ' কোটির বেশি সিগারেট প্রতিবছর পান করেন।

জেদ্দায় কাজা কাফের মালিক আবু মানাফ বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত তাকে অবাক করেছে। তাঁর মতে আদেশ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে গ্রাহকসংখ্যা কমবে। তিনি বলেন, লাভের সমস্তটাই আমি পাই সিসা বিক্রি করে-গ্রাহকদের ৭৫ শতাংশ হচ্ছে সিসা খরিদ্দার। বেসরকারি খাতে কর্মরত ও নিয়মিত সিসাপায়ী ইরিত্রিয়ান ওয়ালীদ মুসা বলেন, কাফে-রেস্তোরাঁয় ধোঁয়া ও সিসামুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে খুব কঠিন কাজ। নিষেধাজ্ঞা যদি কার্যকর করা হয়, তাহলে কাফেগুলো গ্রাহক হারাবে। ধূমপানবিরোধী একটি চ্যারিটি সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল সুলেমান আল সাবি বলেন, তিনি মনে করেন, নিষেধাজ্ঞায় কিশোর ধূমপায়ীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসবে। তিনি জানান, সৌদি আরবে মোট ধূমপায়ীর ২৭ শতাংশ হচ্ছে কিশোর ও প্রাপ্ত বয়স্ক তরুণেরা।

অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সিগারেট বিক্রয়কারীদের মিউনিসিপ্যালিটি ৫শ' সৌদি রিয়াল জরিমানা করে থাকে। ২০০৩ মে তে ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন প্রবর্তিত টোব্যাকো কন্ট্রোল ট্রিটিতে স্বাক্ষরদাতা দেশ হচ্ছে সৌদি আরব। ট্রিটি বা সমঝোতা অনুযায়ী স্বাক্ষরদাতারা তামাকের বিজ্ঞাপন প্রচার এবং তামাক বিপণনের চেষ্টা অবশ্যই বন্ধ করবেন। এছাড়া সিগারেটের প্যাকেটের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ স্থান জুড়ে সতর্কবার্তা লিপিবদ্ধ থাকতে হবে তামাকজাত সামগ্রী প্রস্তুতিতে কী কী উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে- তাও বর্ণিত হতে হবে।

সমঝোতায় অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে ধূমপান বিষয়ক আইন বলবৎ করার জন্য তামাকে উঁচু শুল্ক আরোপ করার জন্য ও চোরাবাজারে সিগারেট বিক্রয় বন্ধ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করার জন্যও সরকারগুলোকে আহবান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ধূমপান নিরোধ শাখার সুপারভাইজার জেনারেল মজিদ অল্ মুনীফ বলেন, মাধ্যমিক স্কুলগুলোয় বিদ্যার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য-সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক