‘ঘুম নেমে আয়রে চোখের পাতায়'.... শৈশবের এই ঘুমপাড়ানী ছড়ার রেশ যেন জীবনের শেষ পর্যন্ত সজিব থাকে। এই কামনা প্রতিটি বাঙ্গালী নর-নারীর। বাস্তবে আজ বালক থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত কারও চোখে ঘুম নেই...। গবেষকরা এর নাম দিয়েছেন ঘুমের সমস্যা। 

ঘুম না আসার সমস্যায় শীর্ষে আছে বাংলাদেশ। এর পরেই রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভিয়েতনামের নাম। এদেশগুলোর মানুষের মাঝে ঘুমের সমস্যা খুবই বেশি, যা মাঝে মাঝে পশ্চিমা নিদ্রাহীনতার হারকেও ছাড়িয়ে যায়। তবে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মানুষের মাঝে ঘুমের সমস্যার হার তুলনামূলকভাবে কম। প্যান আফ্রিকান ও এশিয়ান বিশেষজ্ঞরা প্রথম ঘুম সম্পর্কিত সমস্যার এই তথ্য উদঘাটন করেন। তাদের মতে উন্নয়নশীল বিশ্বের ১৫ কোটি প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ এই সমস্যায় ভুগছে।

এসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে এই সমস্যার হার সবচেয়ে বেশি। এখানেও ভুক্তভোগীদের ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ হচ্ছে নারী। এই হার উন্নত দেশের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি, যা ঘুম সমস্যায় কাতর বাংলাদেশের পুরুষদের হারের তুলনায়ও বেশি।

এদেশে অনিদ্রাক্রান্ত পুরুষের হার হচ্ছে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ। গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশের মানুষের অনিদ্রার পিছনে রয়েছে উচ্চমাত্রায় উদ্বেগ ও হতাশা। ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক সমীক্ষায় এ কথা জানা যায়। সমীক্ষায় আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশে দেশে নারী-পুরুষের মাঝে বিভিন্ন ধরনের ঘুমের সমস্যার উপসর্গের কথা বলা হয়েছে। ‘স্পি' নামের জার্নালে এই গবেষণা-সমীক্ষা প্রকাশিত হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ঘুমের সমস্যার সঙ্গে জনসংখ্যা, জীবনযাত্রার মান, স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থার বিষয়গুলো সম্পর্কিত। এর সঙ্গে বিশেষভাবে হতাশা ও উদ্বেগের ভূমিকাই বেশি। নারী ও অতিবয়স্কদের মাঝে এই সমস্যার হার বেশি। এর মধ্যে ধনী দেশগুলোও রয়েছে। সেভেরিও স্ট্রেনজেস-এর নেতৃত্বে তৈরি এই গবেষণাপত্রে তার সহযোগী ছিলেন নগিয়্যানগা-ব্যাকউনন ক্যান্ডলা।স্ট্রেনজেস বলেন, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ঘুমের সমস্যার মাত্রা প্রচলিত ভাবনার চেয়ে অনেক বেশি।