অর্থের বিনিময়ে যখন কেউ কিছু পেয়ে যায়, যার জন্যে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করার প্রয়োজন হয় না তখন ব্যাপারটা কেমন দেখায়?!

ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি যে, "বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরি কমিশন" (The University Grants Commission) সর্বমোট ৩০টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা তৈরী করেছে যারা নিষিদ্ধ (Black Listed)!

"দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়" (Darul Ihsan University) এর নাম বেশ কয়েকবার বিভিন্ন মিডিয়ায় চলে এসেছে যারা টাকার বিনিময়ে ডিগ্রী / সার্টিফিকেট প্রদান করে!!

টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে CGPA স্ক্রোরসহ সার্টিফিকেট, ভুয়া মার্কসীট, সনদপত্র এবং কোর্স পরিচালকের মুল্যায়ণপত্র!! মনে হচ্ছে মাছের বাজারে দড়দাম করে কেনাকাটা করা!!

বাকি ২৯ টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় তদরুপ অপকর্ম করে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের একটি বিশাল সংখ্যক তথাকথিত ছাত্র/ছাত্রীদেরকে মেধাশুন্যসহ অপরাধ জগতে নাম লেখাতে সুযোগ করে দিচ্ছে। যাতে উক্ত বিশ্ববিদ্যলয়গুলোর কর্তৃপক্ষরা এবং তথাকথিত ছাত্রত্ব নেয়া ছাত্ররাও উভয়ই সমানভাবে অপরাধী।

আর এই তথাকথিত জাল (ভুয়া) ডিগ্রীধারীরা দেশের চোখে যেমন অপরাধী তেমনি এরা বিদেশে কোনমতে গিয়ে ছাত্রত্ব্রের নাম ভাঙ্গিয়ে ভর্তি হয়ে অনেক সময়ে ধরাও খায় তখনও এরা আরোও বড় ধরনের অপরাধী!

সবার নজরে পড়া ভুয়া সার্টিফিকেট দেয়া বিশ্ববিদ্যালয়র ডিগ্রী নিয়ে চাকুরী খুব কমই পাওয়া, যায় যার ফলে এদের বিদেশমুখী হতে হয় এক প্রকার বাধ্য হয়েই!

ইংরেজীতে এই সংবাদটিতে প্রকাশ হয় যাতে পুরো ৩০ টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর্নাঙ্গ তালিকা রয়েছে:
https://bdnews24.com/campus/2019/08/11/ugc-warns-students-against-admission-to-30-private-universities

ইউটিউবে / অনলাইনে ঘাটলে প্রচুর তথ্য উপাত্ত মিলবে শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য করা এই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানদের এবং সম্পর্কিত অপরাধচক্রদের ব্যাপারে!

অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড়/দুই বৎসর MBA কোর্সের ডিগ্রী মাত্র কয়েকদিনে আবার কোথাও কোথাও দরদামে একমত হলে একদিনেই ডিগ্রী পাওয়া সম্ভব!

মজার বিষয় হচ্ছে ভুয়া সার্টিফিকেট এবং মার্কসীট, সনদপত্র ইত্যাদি গুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন যে ভুয়া!

কথায় আছে না "নকল তো নকলের হয়"
ঠিক তেমনি এই নকল ডিগ্রীধারী ছাত্রত্বের নাম ব্যবহারকারীও তেমনি নকল লোকে পরিনত হয়! এরা বিদেশে এসে বিভিন্ন অপরাধের সাথে যুক্ত হয়ে পরে!

আসল ছাত্রের মেধায় থাকে সত্যতা, সাহসী এবং এরা উন্নতির জন্যে সৎভাবে কঠোর পরিশ্রম করে থাকে। আর অন্যদিকে ভুয়া সার্টিফিকেট ডিগ্রীধারীরা বেশীরভাগই হয়ে মুখে অত্যান্ত মধুর স্বভাবের প্রচন্ড কপট-ধুর্ত স্বভাবের!

ভুয়া সার্টিফিকেটধারীরা বিদেশে এসে এশিয়ান বংশদ্ভুত ঘরের মেয়েদের টার্গেট করে বিয়ে করে কাগজ পাওয়ার জন্যে! অন্যথায় ভুয়া স্বরনার্থীর (Asylum Seeker) আবেদন করে অথবা জড়িয়ে পরে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, নারী ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মে!

ভুয়া সার্টিফিকেটধারীরা কঠোর পরিশ্রম করে নাই শিক্ষার জন্যে তাই বিশেষ করে ইউরোপসহ উন্নত বিশ্বের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এরা পড়াশুনা চালিয়ে যেতেও পারে না স্বভাবতই!

কি ধরনের সমস্যা তৈরী করছে এরাঃ
ভুয়া ডিগ্রী সার্টিফিকেটধারীদের জন্যে বাংলাদেশের সাধারন পরিশ্রমী ছাত্র/ছাত্রীদের উন্নত বিশ্বের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধা সত্ত্বেও "ছাত্র ভিসা (Student VISA)" পাওয়া দিন দিন কষ্টকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে!

ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ সরকার এবং "বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরি কমিশন" কে ৩০টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সনাক্তকরন করায়। হয়তো আরোও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে তাই আরোও কঠোর নিয়মকানুন দরকার।

দরকার অপরাধী ছাত্র/ছাত্রীদের সর্তক করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সেই সাথে ডিগ্রীকে স্বস্তা কাচামাল/ মাছের বাজার সাথে মিলিয়ে দেয়া লোকদের অর্থদন্ডসহ দীর্ঘকালীন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা।

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা অত্যান্ত আবশ্যক বিভিন্ন শিক্ষাক্রমের পর্যায়ে। সরকারকে কঠোর ভূমিকা এবং নাগরিক সচেতনা বৃদ্ধি করা দরকার। বিশেষকরে পরিবারের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস করা দরকার।

দেশব্যাপি জনসচেতনামুলক সামাজিক আন্দোলন করা দরকার তবেই শিক্ষার মানের অবনতি রোধ এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দমন করা সম্ভব হবে।

সমীর কুমার ধর
ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড