আসলেই আমরা সহজ সরল স্বভাবের বাঙ্গালী জাতি। আতিথেয়তায় আমাদের জুড়ি নেই। সম্ভবত বলতে পারি পৃথিবীর সকল জাতি থেকে আমরাই এগিয়ে এবং সম্ভবত এক নাম্বারেই রয়েছি!

দেশে বলুন আর বিদেশ বসবাসরত বাঙ্গালী বলুন অতিথিসেবাপরায়ণতা আমাদের DNA (DeoxyriboNucleic Acid) তে।

এইবার আসি মুল প্রসঙ্গে-
যারা বাহিরে প্রবাস জীবনে আছি দেশের পক্ষে আমরা বহিঃবিশ্বে কি কি করতে পারি! অনেকে হয়তো বলবেন দেশের গৌরবময় ইতিহাসের কথা আবার হয়তো বলবেন দেশের রাজনিতীবিদদের কথা যদিও অনেকটা পক্ষপাতে দুষ্ট হতে পারে ব্যাপারটা!

কারণ আমাদের দেশকে অনেক চিনে বা জানে যে বাংলাদেশ একটা "Delta Area Zone" প্রতিবৎসর বন্যা / ঘুর্নিঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয় আর অনেক গরীব জনগন রয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি যা আমাদের দেশের মানকে ছোট/খাটো করে দেখানো হয়!

দেশ প্রেমে উজ্জিবীত নতুন প্রজন্মের দ্বায়িত্ব থাকবে বিদেশীদের নিকট দেশকে ভালো করে পরিচয় করানো।

আমাদের দেশে বন্যা হয় কারন আমাদের ১০০ টির বেশী নদী রয়েছে। নদীতে পলি জমে ভরাট হয় একুল-দুকোল যা নদীর মাতৃক দেশের একটা স্বাভাবিক খেলা।

আমরা বিদেশীদের নিকট বলতে পারি বিশ্বের দীর্ঘ একমাত্র অখন্ড সমুদ্র সৈকত যা ১৫১ কিলোমিটারব্যাপি কক্সবাজারে রয়েছে! এসে দেখে যান!!

আমাদের Mangrove সুন্দরবন রয়েছে যাতে প্রানীজগতের বিপুল সমারোহ রয়েছে আর সৌভাগ্য হলে Royale Bengal Tiger এর দেখা মিলতে পারে বৈকি!

আমাদের রয়েছে সুদৃশ্য বিশাল চা বাগান সিলেটের দিকে! আর বিছানাকান্দি, মাধবকুন্ড, সাতছড়ি, শ্রীমঙ্গল এবং জাফলংয় প্রভৃতির সমারোহ করে তুলেছে নয়নাভিরাম সিলেটকে। বিশেষ করে জাফলংয়ের সৌন্দর্যে আপ্লুত হয়ে যদি আপনি ভারতীয় সীমান্তে দিকে ভুল করে চলে যান তাহলে আপনার মাঝি আপনাকে ফেরত নিয়ে আসবে!

সমুদ্র তটভুমি থেকে সূর্যোদয়ের মনোরম দৃশ্যের জন্যে রয়েছে কুয়াকাটা! কোরাল দ্বীপের জন্যে তো রয়েছেই রয়েছে ছেড়াদ্বীপ এবং সেন্ট মার্টিন!!

আর কেওকারাঢং, সাজেক ভ্যালির কথা বলতে গেলে আমাদের নৈস্বর্গীক পার্বত্য চট্রগ্রাম তো রয়েছেই! আমাদের পার্বত্য চট্রগ্রামের (বান্দরবন, খাগড়াছড়ি এবং রাঙ্গামাটি) কেবল বান্দরবন একাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক দিয়ে সুদুর Switzerland কে সমানভাবে মোকাবিলা করতে পারে!

আমাদের বর্ণিল আদিবাসীদের এবং বাঙ্গালীদের সংস্কৃতি উভয়ই দেশীয় অলংকার এবং টুরিজমের একটি বিশাল সম্পদ যা বিদেশীদের আকৃষ্ট করতে পারে সহজেই।

টুরিস্ট পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরোও উন্নত করে টুরিস্ট এলাকাগুলিতে আরোও উন্নত পরিসেবা দরকার সেইসাথে যোগাযোগ ব্যবস্থাও, তবে করোনা পরবর্তিতে অবস্থা স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশ টুরিজম ক্ষেত্র থেকে বিপুল অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

বিশ্বের করে বলা দরকার যে-
মোদ্দাকথা বিশ্বের অনেক দেশ রয়েছে যাদের দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো টুরিজ্যম নির্ভর। আর আমাদের সোনালী বাংলাদেশের টুরিজ্যমের জন্যে এত বিশাল সংখ্যক জায়গা রয়েছে বলতে হয় যে "God Creates it’s own land"!

২০১৭ সালের বিশ্ব টুরিজম সংস্থার মতে, According to the UNWTO (World Tourism Organization) statistical report, the 10 countries with the highest foreign tourism revenue account for 50% of the expenditure worldwide. In terms of visitors, the 10 countries that receive the most foreign arrivals account for 40% of all trips.

এদের পরিসংখ্যানিক ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী উক্ত ভ্রমনকারীদের ১০টি দেশ হচ্ছে সিরিয়াল অনুয়ায়ী: আমেরিকা, স্পেন, ফ্রান্স, থাইল্যান্ড, ইউকে, ইতালী, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, জাপান এবং করোনা ভাইরাসের দেশ চীন! (ঐ লিষ্ট বাংলাদেশের অবস্থান খুবই নাজুক!!)

করোনা ভাইরাসের কারণে ২০২০ এবং পরিবর্তী সময়ে World Tourism Ranking এ পরিবর্তন আসবে নিঃসন্দেহে!!

দরকার প্রবাসী বাঙ্গালীদের কাজ বাংলাদেশকে প্রমোট করা বিদেশীদের নিকট আর দেশের লোকদের সর্তক থাকতে হবে যেন কোন অপরাধচক্রের হাতে ভোগান্তি না পোহাতে হয় বিদেশী পর্যটকদেরকে।

লক্ষ্য রাখিয়েন উড়ে এসে জুরে বসা উগান্ডু উদ্বাস্তুদের থেকে! এদের দিয়ে দেশের স্বার্থে কৌশলে প্রচার এবং প্রচারনা করিয়ে নিতে হবে!

তা নাহলে Albert Speer এর মতো অবস্থা হবে শেষে!

সমীর কুমার ধর
ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড