বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে এই সংকটকালীন মুহুর্তে প্রবাসীরা যখন নিজেদের জীবন সংশয়ের আশংকায় আছেন। আতংক, উৎকন্ঠায় দিনযাপন করছেন তখনো নিজ দেশের দরিদ্র, অসহায়দের সাহায্য এগিয়ে এসেছেন।

সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সে সকল প্রবাসীদের শ্রদ্ধা নিবেদন বা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করার জন্য কোন বিশেষণই অভিধানে খোঁজে পেলাম না।

যখন সারা পৃথিবী করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউন, তখন সব দেশের মানুষই কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে। সবাই ঘরে অবস্থান করছে। আমাদের দেশের প্রবাসীরা যারা বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেকে এবং পরিবার কে নিয়ে আছেন। ইউরোপ আমেরিকার দেশ গুলাতে ভাইরাসের প্রকোপ খুব বেশি। তারা নিজেরাই অনিরাপত্তার মধ্যে আছেন এবং অনেক প্রিয় মানুষকেই আমরা হারিয়ে ফেলেছি।

তাছাড়া যারা পরিবার ছাড়া প্রবাসে আছেন তাদের অবস্থা আরও খারাপ৷ কারণ পরিবার সাথে নেই। আল্লাহ না করুন ভাইরাসে সংক্রমিত হলে তাদের অবস্থা যে কি হবে আল্লাহ তায়া’লাই ভাল জানেন। তাদের মনের কষ্ট তারাই বুঝেন।

কিন্তু এখনও তারা দেশের মানুষের এই দুঃসময়ে বিভিন্ন সংগঠনে বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। তাদের দেশের প্রতি ভালবাসা যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তারা দেশেকে যখন কিছু দিতে চান তখন নিজেকে বিলিয়ে দিতেও কুন্ঠা বোধ করেননি। কিন্তু আমরা কি তাদের সেই প্রাপ্য সম্মানটুকু দিচ্ছি?

দেশের সরকার যতটুকু সহায়তা দিচ্ছেন তা দুর্দশাগ্রস্থ অসহায় মানুষেদের জন্য যথেষ্ট নয়। এ দেশে যারা বড় বড় ব্যবসায়ী শিল্পপতি বসে আছেন তারা কি সাহায্য করছেন অসহায় মানুষদের?
উত্তর না! কিন্তু দুঃসময়ে তাদের এই উদাসীনতার কারণে আজিম উদ্দিন নামক ভিক্ষুক মানবতার উদাহরণ ঠিকই বুঝিয়ে দিয়েছেন। আপনারা যারা দেশের মানুষের রক্ত চুষে এত দিন ব্যবসা করে আসছেন, হাজার হাজার টাকা মুনাফা লাভ করেছেন, শ্রমিকের মজুরির ঘামে মখমলের মসনদ বানিয়েছেন, অসহায় মানুষের মানবিক বিপর্যয়ে তখন কি এগিয়ে এসেছেন? প্রকৃত অর্থে টাকা পয়সা থাকলেই ধনী হওয়া যায়না, বড় মনও থাকতে হয়। একজন ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনই প্রকৃত ধনী। তারপরও দেশে এই সকল ব্যবসায়ী দুই নাম্বার ধনীরাই সম্মান পাবেন।

আমাদের দেশের প্রবাসীরা যারা একজন রেমিটেন্স যুদ্ধা হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তাদের ভাগ্যে জুটেছে অবহেলা আর লাঞ্চনা। প্রবাসীদের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি, অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন, নগদ অর্থ দিয়ে দুঃসময়ে অভাবী মানুষের অসহায়ত্বের চিন্তা করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, মানবিকতার যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা অতুলনীয়।

কিন্তু সেই রেমিট্যান্স যুদ্ধা বা নাজিম উদ্দিনদের আমরা কি তাদের সম্মান দেই।

১৯৭১ সালে আমাদের দেশে মুক্তি যুদ্ধের সময়ে যে সব বীর পুরুষরা পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন এবং আমাদের জন্য একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়ে আমাদের মৌলিক অধিকার গুলোকে ফিরিয়ে এনেছিলেন। তাদের যে স্বপ্ন ছিল তা রেমিটেন্স যোদ্ধাদের মাধ্যমে আমাদের সেই স্বপ্ন একটি সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশের বাস্তবায়নে হবে। হে রেমিট্যান্স যোদ্ধা আপনারা রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সেজন্য আপনাদের কে আবারো স্যালুট, আপনারা ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন। কারণ আপনারা ভালো থাকলে, ভাল থাকবে দেশের অসহায় মানুষ।

লেখক এম. মুহিবুর রহমান মুহিব
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ বোরহান উদ্দিন (রাঃ) ইসলামিক সোসাইটি
(বিআইএস) মৌলভীবাজার