দালাদের খপ্পরে কত জন বাংলাদেশী যে তাদের সর্বস্ব খোয়াচ্ছে তার কোন সঠিক হিসাব না থাকলেও অবশেষে তানজানিয়ায় কারাগারের মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি পেল ২০ বাংলাদেশী।

গতকাল সকালে প্রায় ২১ মাস পর তার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তারা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিচালক (কল্যাণ) মোহসিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে তার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তারা বিমানবন্দরে আসেন। পরে তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়। তাদের জরুরি কিছু সহায়তা দেওয়া হয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সাথে আনিস খান, বিটু মিয়া, আলী নূর, ফারুক হাওলাদার, ওহিদ হাওলাদার, মোহাম্মদ রাসেল, কালা চাঁন, জাহিনুর রহমান, আমানুল হক, ফজলুল হক, বিল্লাল, আবদুল মালেক, আলাউদ্দিন, জামাল হোসেন, আবু নাসের, রমজান মিয়া, শহীদি আহমেদ, মাসুম মিয়া ও কাবিল মিয়া নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশে চলে যান।

তবে হেলালউদ্দিন নামের একজনকে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তিনি দালাল হিসেবে বাকি ১৯ জনকে ওই দেশে পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা যাবার জন্য তাদের একেকজনের কাছ থেকে দালালেরা পাঁচ থেকে সাড়ে নয় লাখ পর্যন্ত টাকা নেয়। দালালরা ২০১১ সালে ১৮ই জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকায় ভাল বেতনে চাকরি দেয়ার কথা বলে তাদের উগান্ডায় নিয়ে যায়। কিন্তু উগান্ডা থেকে পায়ে হেঁটে শ’ শ’ মাইল পাড়ি দিয়ে কেনিয়া ও তানজানিয়ার সীমান্তে নিয়ে যায়। সেখানে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। এরপর তানজানিয়ার দারুস সালাম ও মাতোয়ারা জেলে তাদের আটক রাখা হয়।

অনলাইন ডেস্ক