সম্প্রতি বিবিসি টেলিভিশনের ‘হার্ড টক’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর একটি সাক্ষাত্কার প্রচারিত হয়েছে। তাতে অনেক বিষয়ের মধ্যে বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার বৈরিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টিও এসেছে। 

অধ্যাপক ইউনূসকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতো একজনকে আক্রমণের শিকারে পরিণত করে তিনি অপ্রয়োজনীয় ইস্যু সৃষ্টি করছেন। অধ্যাপক ইউনূস বাঙালি জাতির গর্ব। তিনি বিশ্বকে যুগান্তকারী একটি উদ্ভাবন উপহার দিয়েছেন। এ জন্য তাকে বলা হয় ক্ষুদ্রঋণের জনক। আগে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না দরিদ্রদের। কারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা ছিল বন্ধকনির্ভর। ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে যে জমির দলিল জমা দিতে হয়, প্রান্তিক মানুষ তা দিতে পারত না। উপরন্তু ব্যাংকঋণ পাওয়ার জটিল প্রক্রিয়া সহজভাবে উতরে ঋণের নাগাল পেতে সমর্থ হয়নি তারা। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং থেকে দরিদ্রদের বঞ্চিত করার জন্যই এ বন্ধকীব্যবস্থা বা কো-লেটারাল সিকিউরিটি সিস্টেমের প্রয়োগ করা হয়। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই এ ব্যবস্থা দীর্ঘ দিন ধরে বিদ্যমান রয়েছে। বন্ধকীব্যবস্থা বা কো-লেটারাল সিকিউরিটি সিস্টেমের মাধ্যমে ঋণগ্রহণের যে প্রক্রিয়া চলছিল সারা বিশ্বে, অধ্যাপক ইউনূস তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের সফল কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে গত ৩৬ বছরে তা ভেঙে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্প (১৯৭৬) ও গ্রামীণ ব্যাংকের (১৯৮৬) মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দরিদ্র, প্রান্তিক ও ভূমিহীন জনগোষ্ঠী এবং গ্রামের ৯৫ শতাংশ ভূমিহীন পরিবারের নারীরা মূলত এ ঋণের গ্রহীতা। তারা বন্ধকী দলিল বা কো-লেটারাল সিকিউরিটি সিস্টেম ছাড়া ঋণ নিয়ে উত্পাদনশীল কাজে বিনিয়োগের মাধ্যমে তা সফলভাবে পরিশোধ করতে সক্ষম, এটা প্রমাণ করেছেন তিনি। এ কারণে তার উদ্ভাবিত ক্ষুদ্রঋণের মডেলটি বিশ্বে যুগান্তকারী এক উদ্ভাবন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্বের প্রায় ১০৭টি দেশে এ মডেল অনুসরণে কাজ করছে অনেক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা। সেসব দেশে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এটি। প্রান্তিক মানুষের কাছে বন্ধক ছাড়া ঋণ পৌঁছে দেয়ার এক সফল উদ্ভাবন হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোয়ও এটি স্বীকৃতি পেয়েছে। ফলে অধ্যাপক ইউনূস ও তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে লাভ করেছে নোবেল পুরস্কার। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের একটি সফল উদ্ভাবন হিসেবে মডেলটি বিবেচিত হওয়ায় তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেছেন।

দুঃখজনক হলেও সত্য, ২০১০ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক ইউনূসকে তার আক্রমণের অন্যতম লক্ষ্যে পরিণত করেছেন। গ্রামীণ ব্যাংকের একটি ফান্ড তারই এক সিস্টার অর্গানাইজেশন গ্রামীণ কল্যাণে ট্রান্সফার করা হয়েছে— নরওয়ে টেলিভিশনে এ মর্মে প্রচারিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে দোষারোপ করা হয়। দেশী গণমাধ্যমগুলোয়ও খবরটি নিয়ে প্রোপাগান্ডার জোয়ার বয়ে যায়। এতে প্রধানমন্ত্রীসহ তার দলের নেতারাও অধ্যাপক ইউনূসকে আক্রমণের শিকারে পরিণত করেন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ এ বিতর্কে জড়িয়েছেন ইচ্ছাকৃতভাবে। রাজনৈতিকভাবে এটি তাদের জন্য সুফল বয়ে আনার কোনো কারণ নেই। বরং বাংলাদেশের জনগণের বড় একটি অংশ এর ফলে তাদের প্রতি বিরক্ত হয়েছেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

বিবিসি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রী কতগুলো ভুল তথ্য উল্লেখ করেছেন বা তাকে ভুল তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার ৩০ থেকে ৪৫ শতাংশ ও দরিদ্র মানুষের জন্য এটি বোঝা— প্রভৃতি কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী, যার অধিকাংশ মোটেও সত্য নয়। গ্রামীণ ব্যাংক অবশ্য দাবি করে তাদের সুদের হার ২০ শতাংশ। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত গবেষণায় দেখানো হয়েছে, রিডিউসড ব্যালেন্স ম্যাথোডে এটি দাঁড়ায় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। ঋণ দেয়ার সময় কিছু অর্থ অগ্রিম কেটে রাখে তারা এবং ৫২ সপ্তাহের আগেই ঋণ পরিশোধ করার ব্যবস্থা চালু রয়েছে সেখানে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার গিয়ে দাঁড়ায় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশে। এ সুদের হার ব্র্যাক বা আশার মতো এনজিওর তুলনায় অনেক কম। ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ সম্পাদিত একটি গবেষণা গ্রন্থে বড় দুটি এনজিও ব্র্যাক ও আশার সুদের হার হিসাব করে দেখানো হয়েছে ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রশিকার সুদের হার দাঁড়ায় ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশে। এগুলো সঠিকভাবে হিসাব করা হয়েছে বলেই ধারণা। কারণ প্রতিথযশা অর্থনীতিবিদরা এসব গবেষণা করেছেন। এ বিবেচনায় ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার সর্বনিম্ন। সুতরাং ইউনূসকে সুদখোর বা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এ ঋণ বোঝা— এসব বলা যৌক্তিক নয়। এও সত্য, এ সুদের হার আরও কমানোর সুযোগ রয়েছে। ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি সঠিক সময়ে পরিশোধ করা হলে এর ভেলোসিটি অব সার্কুলেশন বছরে ৩ দশমিক ৫৩ গুণ বেড়ে যায়। এর অর্থ হলো, ৫ হাজার টাকার ঋণ বছরশেষে সাড়ে ১৭ হাজার টাকা বা তার বেশি হয়। এটি বিবেচনা করলে সুদের হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে আরও কমানোর সুযোগ রয়েছে। সুদের হার কত কমানো হলে ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান এখান থেকে যৌক্তিক মুনাফা করতে পারে এবং ঋণগ্রহীতারাও উপকৃত হতে পারে— গবেষণা করে এটি বের করা সম্ভব। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি ও পিকেএসএফ এটি হিসাব করে দেখতে পারে। মূল ইস্যু হওয়া প্রয়োজন সুদের হার কমানো, মুহাম্মদ ইউনূস নয়। ক্ষুদ্রঋণকে কী করে আরও উত্পাদনশীল বিনিয়োগমুখী করা যায়, সেটিই মুুখ্য বিষয় হওয়া উচিত।

ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য নিরসনে একেবারেই ভূমিকা রাখে না— প্রধানমন্ত্রী এমন অভিযোগ বারবার উত্থাপন করছেন। এটিও সত্য নয়। দারিদ্র্য নিরসনে ক্ষুদ্রঋণের ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে অবশ্যই, তবে তা আশানুরূপ নয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শতকরা ২৮ জন এ ঋণ নিয়ে তাদের অবস্থা উন্নত করতে পেরেছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্রঋণের উত্পাদনশীল ব্যবহার ক্রমেই জটিল হয়ে পড়ছে। এর উত্পাদনশীল ব্যবহার এখনো নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। শত শত এনজিও দেশব্যাপী ক্ষুদ্রঋণ ব্যবসায় নেমে পড়েছে। এতে উত্পাদনশীল বিনিয়োগের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনের প্রক্রিয়াটা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। মনিটরিংও দুর্বল হয়ে গেছে। এসব কাজ সুসম্পন্ন করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়। একই ব্যক্তিকে একাধিক প্রতিষ্ঠান ঋণ দিতে গিয়ে তৈরি হচ্ছে ঋণের ফাঁদ। প্রথম এনজিওর ঋণ শোধ করতে গিয়ে তারা নিচ্ছেন আরেক এনজিওর ঋণ। এভাবেই তৈরি হচ্ছে ফাঁদ। ঋণের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না। এতে ক্রেডিট ডিপেন্ডেন্স বা ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যাচ্ছে। ছোট পরিমাণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নেয়ায় সেটি বড় আকার ধারণ করছে। এতে তারা জড়িয়ে যাচ্ছেন ঋণের জালে। এভাবে একসময় তারা হারিয়ে ফেলছেন ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য। ক্ষুদ্রঋণের গবেষকদের কাছেও বিষয়টি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাই বলে দারিদ্র্য নিরসনে ক্ষুদ্রঋণের মডেলটি কাজ করছে না বলে অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে দোষারোপ করা হবে, তা সমর্থনযোগ্য নয়। সরকারের সেফটি-নেট প্রোগ্রামগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ১০ শতাংশ দারিদ্র্য নিরসন হয়েছে বলে হাউসহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেনডেচার সার্ভের (এইচআইইএস) মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। এর কৃতিত্ব শেখ হাসিনা নিজেই দাবি করছেন। মনে রাখতে হবে, এ অর্জন ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যবর্তী সময়ের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেছেন ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি। দারিদ্র্য নিরসনের কৃতিত্ব তিনি একা দাবি করলে সেটি বড় অন্যায় হবে। অর্থনীতির একজন ছাত্র হিসেবে বলতে পারি, সেফটি-নেট প্রোগ্রাম বা সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম দিয়ে দারিদ্র্য নিরসন হয় না। দারিদ্র্য একটি ব্যবস্থাজাত সমস্যা। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাই দারিদ্র্য সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই দারিদ্র্য সৃষ্টির কারখানার মতো কাজ করছে, সেটি আমরা গবেষণার মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করে চলেছি। এখানে দারিদ্র্য সৃষ্টি ও পুনঃসৃষ্টি হচ্ছে। রাষ্ট্র সে প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করছে। বৈষম্য বৃদ্ধিকারী কার্যক্রম, দুর্নীতি, লুণ্ঠনসহ ১২টি ডাইমেনশনের মাধ্যমে রাষ্ট্র দারিদ্র্য সৃষ্টি করছে। এভাবে দারিদ্র্য সৃষ্টির প্রধান ক্ষেত্র হচ্ছে আমাদের কৃষি খাত। শক্তিশালী কৃষি ও ভূমি সংস্কার ছাড়া এ খাতে দারিদ্র্য যেভাবে সৃষ্টি এবং পুনঃসৃষ্টি হচ্ছে, সে প্রক্রিয়াকে সহজে দুর্বল করা যাবে না।

একই সঙ্গে দারিদ্র্য সৃষ্টি করছে আমাদের বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থা। সেই প্রাথমিক স্তর থেকেই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা বৈষম্যের মধ্যে রয়েছে। দরিদ্র জনগণের সন্তানরা প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে অর্ধেক ঝরে পড়ছে। রাষ্ট্রীয় অর্থে ইংলিশ মিডিয়াম ও ক্যাডেট কলেজের মতো প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে মাদ্রাসার মতো যুগোপযোগিতাহীন শিক্ষাব্যবস্থাও লালন করছে রাষ্ট্র। দরিদ্র কৃষক-শ্রমিকের সন্তানরা এ মাদ্রাসায় ভর্তি হচ্ছে। বলা যায়, শিক্ষাব্যবস্থা প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা— প্রতিটি স্তরেই বৈষম্যমূলক। এখানেও দারিদ্র্য সৃষ্টি ও পুনঃসৃষ্টি হচ্ছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থার বাজারীকরণও দারিদ্র্য সৃষ্টি করছে। একইভাবে বলা যায় সরকারি রাজস্ব ও ব্যয়ব্যবস্থার কথা। সেগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, পরোক্ষ করের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে বেশি। সেগুলো আবার ব্যয় হচ্ছে প্রতিরক্ষা, সিভিল প্রশাসন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অন্যান্য অনুত্পাদনশীল খাতে। এর মাধ্যমেও পুঁজি সাধারণের কাছ থেকে চলে যাচ্ছে সমাজের উচ্চ মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের কাছে। ঠিক একইভাবে কাজ করছে ব্যাংকিং ব্যবস্থা। সারা দেশ থেকে আমানত সংগ্রহ করে তারা সেটি পৌঁছে দিচ্ছে কয়েক হাজার কোটিপতির কাছে। কোটিপতিরা ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার নামে ঋণ নিচ্ছেন এবং তার একটা বিশাল অংশ খেলাপি ঋণ হয়ে যাচ্ছে। সব সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে ঢাকাকেন্দ্রিক। যাবতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নের মূলে রয়েছে রাজধানী। এতে ঢাকা বিস্ফোরণমূলক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বঞ্চিত হচ্ছে গ্রাম ও অন্যান্য ছোট শহর। বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য লুণ্ঠনের একটা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে দেশে। দুর্নীতির অর্থনীতি লালন করছে সরকার ও সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিকভাবে চাঁদাবাজ ও মাস্তানদের পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে। ক্ষমতায় যাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই কেউ কেউ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাচ্ছেন। দুর্নীতির রাজনীতি ও অর্থনীতি আমাদের দেশকে খাচ্ছে কুরে কুরে। একশ্রেণীর ক্ষমতাসীন রাজনীতিক, মন্ত্রী, আমলা ও তাদের আত্মীয়স্বজন লুণ্ঠনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলছেন। রাজনীতি দুর্বৃৃত্তায়িত হয়ে গেছে। চাঁদাবাজ, মাস্তান ও দলীয় ক্যাডারদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে ক্ষমতাসীন দলগুলো। রাজনৈতিক দল সেটা বিএনপি বা আওয়ামী লীগ যে-ই হোক, ক্ষমতায় এসে দুর্নীতির মাধ্যমে ফল ভোগ করছে। এতে বঞ্চিত হচ্ছে গোটা জাতি।

রাষ্ট্রই যেখানে দারিদ্র্য সৃষ্টি করছে, সেখানে অধ্যাপক ইউনূসকে দোষারোপ করাটা যৌক্তিক নয়। প্রধানমন্ত্রীর নিজের ও তার দলের দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে দুর্নীতির জন্য সারা বিশ্বে দুর্নাম কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। শুধু টিআই সূচক দিয়ে এটি পরিমাপ করা যাবে না। দুর্নীতিই বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। দুর্নীতির ব্যাপারে আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির চিন্তা বরং করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। দেশ পরিচালনার ক্ষমতা গ্রহণের পর জাতিকে দুর্নীতিমুক্ত করার কোনো পথ দেখাতে পারেননি তিনি। এটি কি কম বড় ব্যর্থতা?

অনলাইন ডেস্ক